Showing posts with label আউটসোর্সিং. Show all posts
Showing posts with label আউটসোর্সিং. Show all posts

সাইট বানাতে বা ডেভলাপ করতে চাচ্ছেন? জেনে নিন কি রকম সাইট কেমন ভিজিটর পাবে।

আপনি সাইট বানাতে চাচ্ছেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না কি রকম সাইট বানাবেন?  প্রথমেই মনে রাখতে হবে ভিজিটরের উপর নির্ভর করে আপনার সাইটের ইনকাম হবে। কিন্তু সব রকম সাইট ভিজিটর সমান পায় না, কেও বেশি পায় কেও বা কম। কি রকম সাইট ভিজিটর কেমন পায় তা নিম্মে দেখানো হলঃ
Social Networking site: 10000+ কিন্তু ফেসবুকের আবিষ্কারের মাধ্যমে এখন এই ধরনের সাইট বিলুপ্তির পথে।
Question Answer site  ঃ মুষ্টিমেয় দুটি সাইট হল ইয়াহু এবং stack এর superuser/overflow এই দুই কোম্পানির সাইট। কিন্তু তাই বলে তাদের সাথে পেরে উঠবেন না তা হয় না। এখন ও এই টাইপের সাইটের ব্যপক চাহিদা রয়েছে এবং পাক্ষিক ১.৫ কোটি ভিজিটর প্রত্যাশা করা যায়।
Public Blog: পাব্লিক ব্লগ কেমন হবে তার উপর নির্ভর করে সাইটের ভিজিটর নির্ভর করে যেমন টেকনোলজি ভিত্তিক হলে মাসে ৫০ হাজার+ আবার রাজনৈতিক কিংবা সাহিত্য নির্ভর হলে ২০হাজার +
টিউটোরিয়াল ভিত্তিক হলে ভাল ভিজিটর পাবেন। তবে আপনাকে চরম ভাবে onpage seo করতে হবে। এর জন্য এটি পড়তে পারেন।
এই রকম সাইট গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করে। এবং মাসে আপনি টেকটিউন্সের মতই খুব ভালো ইনকাম করতে পারবেন।
ডাউনলোড সাইটঃ ইন্টারনেটের প্রায় ৪০ শতাংশ ট্রাফিক সাধারনত এই সকম সাইটে দেখা যায়। কি প্রকার ডাউনলোড এর উপর ভিত্তি করে এই সকল সাইটের ট্রাফিক নির্ভর করে যেমন গানের ডাউনলোডের সাইটের ট্রাফিক মাসে ১০ লক্ষ + মুভি ডাউনলোডের ট্রাফিক মাসে ৫০ লক্ষ+ বিভিন্ন ক্র্যা(ক) সফটওয়ার বা এন্ড্র্য়েড এপ ডাউনলোড সাইটের ট্রাফিক ১ কোটি +, উল্লেখ্য এই ধরনের সাইটে গুগল তাদের এড দেখাতে খুব একটা আগ্রহী না। আপনি যদি ভালো মানের ট্রাফিক পান তাহলে আপনাকে ট্রাইব নেশনের দ্বারস্ত হতে হবে। এবং এরকম একটি সাইট আপনার থাকলে সারা জীবন জমিদারের মত খেতে পারবেন।
ফোরামঃ Q/A সাইটের মত এই সকল সাইটে যদি ইউনিক সলুশন কিংবা কন্টেন্ট থাকে তাহলেও চরম ভিজিটর পাবেন। warriror forum এর বর্তমান বাজার মূল্য ১২৮ বিলিয়ন ডলার।
টিউব বা ভিডিও সাইটঃ ইউটিউবের মত সাইটকে টিউব সাইট বলা হয়। আপনার মনে প্রশ্ন হতে পারে ইউটিউব থাকতে কেও আপয়ার ভিডিও সাইট আসবে কেন?
হ্যা। কিন্তু আপনি এমন কিছু ভিডিও রাখলেন যা সাধারনত ইউটিউব রাখে না তাহলে ভিজিটর আপনার সাইট আসতে বাদ্য। যেমন ধরিন তালেবানদের ভিডিও, মস্তক ছেদনের ভিডিও, এক্সিডেন্টের ভিডিও, গোর ভিডিও, ইত্যাদি। এই টাইপের চরম সাইট হল bestgore.com এবং prochan.com
এছাড়া ডিপ অয়েভ ভিডিও, এলিয়েন, ইউএফো ইত্যাদি ভিডিও ও রাখতে পারেন। পাশাপাশি ইউটিউবের ভিডিও ও দেখাতে পারেন।
পর্ন সাইটঃ সাধারত এই সকল সাইট ভিজিটর খেকো। আপনাকে না করতে হবে seo করতে না করতে হবে কোন টেনশন। একটি সাইট খুলুন এবং বসে বসে টাকা কামান। কিন্তু এটি খোলা সম্পূর্ন মানবেতর দিক থেকে চিন্তা করতে হবে। ইন্টারনেটের ভিজিটরের ৮৮% ই এই সকল সাইটে দেখা যায়, তার একটি বৃহৎ অংশ আসে ইন্ডিয়া, আমেরিকা সহ বিভিন্ন ল্যাটিন আমেরিকার দেশ থেকে।চীন, জাপান থেকে অল্প সংখ্যক ভিজিটর আসে, এই সকম সাইটের মাসিক ভিজিটর ৫০০ কোটি +

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ১০০০ ডলার আয় করার প্ল্যান :: সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে নিস সাইট ডিজাইন [কোডিং জ্ঞান ছাড়াই] [চেইন টিউন : পর্ব – ০৬]

পর্ব ৪-এ লিখেছিলাম: নিস সাইটের জন্য পারফেক্ট ডোমেইন এবং বেস্ট হোস্টিং বাছাই। সেখানে কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস সেটাপ করতে হয় সেটাও দেখিয়েছিলাম। মনে আছে? মনে না থাকলে সেটা পড়ে নিন ভালো করে।
কারণ আজকে তারপর থেকেই শুরু হবে। কিন্তু যারা গোড্যাডি থেকে ডোমেইন-হোস্টিং কিনবেন না তারা কীভাবে সাইটে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করবেন? ব্যাপারটা আসলে তেমন কঠিন না। বরং আরও সহজ। এটা অল্প কথায় লিখে আজকের মূল পর্বে চলে যাবো- সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে নিস সাইট ডিজাইন করা দেখাবো। কিন্তু সেজন্য আপনাকে ওয়েব ডিজাইনার বা ওয়েব প্রোগ্রামার বা ওয়েব ডেভেলপার হতে হবে না। ওকে?

কীভাবে এক ক্লিকে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করবেন?

প্রায় প্রতিটি হোস্টিং প্রোভাইডারের হোস্টিং-এ সফটাকোলাস নামক একটা সফটওয়্যার আছে। ঐটা ব্যবহার করে এক ক্লিকে (আসলে কয়েকটা ক্লিক করতে হয়... ;)) ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করা যায়। কীভাবে সেটা করবেন তা শেখার জন্য নিচের ছোট্ট ভিডিওটা দেখে নিতে পারেন।
তো, যে যেভাবে পেরেছেন, ধরে নিলাম আপনার সাইটে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করা হয়ে গেছে। আমি এখন পরের পর্বে, মানে আজকে যেটা নিয়ে আলাপ করবো- “কীভাবে আপনার নিস সাইটটা ডিজাইন করবেন?” অংশে চলে যাবো। ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল সংক্রান্ত কোনো জটিলতা/সমস্যা দেখা দিলে আমাকে জানাবেন নিচে টিউমেন্ট করে।

কীভাবে নিস সাইট ডিজাইন করবো?

কাজের এবং বুঝতে সুবিধার জন্য আমরা পর্বটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নেবো। অর্থাৎ কোনটার পর কোনটা শিখবো সেটা আমরা দেখে নিই চলেন এক নজরে:
  • প্রাথমিক সেটাপ
  • থিম সেটাপ
  • প্লাগিন সেটাপ
  • পেজসমূহ এবং টিউনসমূহ সেটাপ
  • ওভারঅল অন্যান সেটাপ
উপরের এই পাঁচটা সাব-পার্ট সেটাপ করতে পারলেই আমাদের কাজ কমপ্লিট। একটা ব্যাপার মনে রাখুন। সাইটকে ডিজাইন দিয়ে ভারি করে ফেলবেন না। সাইট হওয়া উচিত নিট এন্ড ক্লিন। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড-এ কালো/গ্রে বর্ণের লেখাই সর্বোৎকৃষ্ট।
চলুন উপরের পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে শিখে নেয়া যাক:

প্রাথমিক সেটাপ

ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল কমপ্লিট। তাইতো? এবার http://www.YourNicheWebsite.com/wp-login.php-এ গিয়ে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করার পর পাচ্ছেন একটি ড্যাশবোর্ড। অর্থাৎ আপনার সাইটের এডমিন প্যানেলে লগিন করেই যে পেজটা পাচ্ছেন সেটাই হচ্ছে ড্যাশবোর্ড। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করা প্রায় সব ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড-ই সেইম। দেখুন নিচের স্ক্রিনশটটা। তাহলেই এক নজরে বুঝে যাবেন:
উপরের স্ক্রিনশটটা ভালো করে দেখে নিন। তাহলেই আপনার সাইটের এডমিন প্যানেল সম্পর্কে একটা ক্লিয়ার ধারণা পেয়ে যাবেন। কিছু বুঝতে সমস্যা হলে প্রশ্ন করতে ভুলবেন না। আশা করি আপনার প্রশ্নের সমাধান দিতে পারবো।

থিম সেটাপ

নিস সাইটের জন্য পেইড থিম ব্যবহারের পক্ষে প্রায় সবাই-ই। আমি নিজেও আমার নিস সাইটগুলোতে পেইড থিম ইউজ করি। কিন্তু শুরুতে আমি আপনাকে বলবো ফ্রি থিম ইউজ করার জন্য। আর ফ্রি থিমের মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেসের ডিফল্ট থিমের বিকল্প হয় না। নিচের স্ক্রিনশটটা দেখে নিন ভালো করে:
যদি আপনি নতুন থিম বা ডিফল্ট থিমের পরিবর্তে অন্য থিম ব্যবহার করতে চান তাহলে সেটা ইনস্টল করতে হবে “Appearance” অংশ থেকে। নিচের ধাপগুলো খেয়াল করুন:
১. “Appearance”-এ মাউস নিলে পপআপ হবে। উপরের স্ক্রিনশট দেখুন।
২. “Themes” বাটনে/মেনুতে ক্লিক করুন। নতুন পেজ ওপেন হবে।
৩. সবচেয়ে উপরে দেখুন “Add New” বাটন আছে। ওখানে ক্লিক করুন।
৪. সার্চ অপশন পাবেন এই পেজে। থিম সার্চ করে ইনস্টল করতে পারেন। অথবা “Upload” বাটনে ক্লিক করে Upload করতে পারেন আপনার পিসিতে যদি অলরেডি কোনো থিম থেকে থাকে।
৫. সবশেষে থিমটি একটিভ করুন। ব্যাস হয়ে গেলো।
নতুন থিম একটিভ করলে পুরনো থিমটা ডিএকটিভ হয়ে যায় অটোমেটিক। এভাবে আপনার ইচ্ছেমতো থিম পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারেন। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো- শুরুতে ওয়ার্ডপ্রেসের ডিফল্ট থিম নিয়েই কাজ করুন। পেইড থিম নিয়ে অযথা সময় ও অর্থ নষ্ট করবেন না। তারপর শুরুর ২/১ টা প্রজেক্টে সাকসেস হলে, টাকা খরচ করে পেইড থিম কিনতে পারবেন, ডেভেলপার রেখে ডিজাইন করতে পারবেন সাইট নিজের ইচ্ছে-স্বাধীনমতো।

প্লাগিন সেটাপ

প্লাগিন ইনস্টল করা অনেকটা থিমের মতোই। তাই এখানে আর ডিটেইলস কিছু লিখবো না। শুধু প্রয়োজনীয় প্লাগিনগুলোর একটা লিস্ট দিচ্ছি:
1. All in One SEO Pack
2. Jetpack by WordPress.com
3. Google XML Sitemap
4. Eggplant 301 Redirect (Optional)
5. Social Share (Optional)
উপরের এই ৪/৫ টা প্লাগিন-ই যথেষ্ট একটা নিস সাইটের জন্য। অযথা প্লাগিন ইনস্টল করে সাইট ভারি করে তুলবেন না। সাইটের স্পিড কমে গেলে সাইট রেংক হতে বেশি সময় লাগে। অনেক সময় গুগল স্যান্ডবক্সে ফেলে রাখে তিন মাস, অযথাই। সুতরাং অপ্রয়োজনীয় প্লাগিন ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।

ওয়ার্ডপ্রেস সেটাপ ভিডিও টিউটোরিয়াল

আমার এই লেখা পড়ে যদি আপনাদের সমস্যা হয় ওয়ার্ডপ্রেস সেটাপ করতে, তাহলে একটা ভিডিও দেখতে পারেন। তবে এজন্য একটা কাজ করতে হবে। আমার Azon Star সাইটে যেতে হবে। সেখানে এই লেখাটি দেখুন: How to Design an Amazon Niche Site? এই টিউটোরিয়ালে নিচের স্ক্রিনশটের মতো একটি অংশ আছে। ওখান থেকে যেকোনো একটা শোশ্যাল বাটনে ক্লিক করে লেখাটা শেয়ার দিন আর পেয়ে যাবেন ভিডিও টিউটোরিয়ালটা:

পেজসমূহ এবং টিউনসমূহ সেটাপ

পেজসমূহ হচ্ছে- সাইটে পেজ এড/এডিট করার জন্য। কি কি পেজ লাগবে তার একটা লিস্ট আমি কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট অংশে দেবো। তবে মোটামুটি একটা নিস সাইটে ৫-৭ টা পেজ লাগে।
আর টিউন লাগে মোটামুটি ২০-৩০ টা। তবে অনেক অভিজ্ঞ নিস সাইট অউনার বলেন ১০০ টাও লাগতে পারে। কিন্তু আমি দেখেছি ভালো করে ১৫ টা টিউন সাইটে থাকলেও হয়। অর্থাৎ সাইট রেংক করে। টিউনগুলো হবে এরকম: ২০ টা তথ্যমূলক টিউন এবং ১০ টা রিভিউ। শুরুতে এই কয়টা লাগবেই। এ সম্পর্কে বিস্তারিত পাবেন পরের পর্বে।

ওভারঅল অন্যান্য সেটাপ

ওভারঅল অন্যান্য সেটাপের মধ্যে আছে পার্মালিংক। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা পর্ব। এটা সেটিংস অংশে করতে হবে। “Settings"-এ মাউস হোভার করলে ওভারে দেখবেন “Permalink" একটা মেনু আছে। ওখানে ক্লিক করে সাইটের পার্মালিংক দিতে হয়- টিউন নেম/Post Name। কেন? সেটা এসইও অধ্যায়ে লিখবো। কারণ এটা এসইও’র কাজ।
এছাড়াও সাইটের টাইটেল, ট্যাগ লাইন ইত্যাদি দিতে হয় সেটিংস-এর জেনারেল/General অধ্যায়ে। এই বিষয়গুলো টুকটাক ব্যাপার। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। তো আশা করবো আপনারা বিষয়গুলো যত্নের সাথে খেয়াল করবেন।

সর্বশেষ কথা

এই পর্ব এখানেই সমাপ্ত। প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই করবেন। আমি গুরুত্বের সাথে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। আমাকে পারসোনালি কন্ট্যাক্ট করার চেয়ে এখানে টিউমেন্ট করে কিছু জানতে চাইলে সেটা আমি দ্রুত রিপ্লাই দেই। কেন? কারণ এতে আপনি লাভবান হলেন- পাশাপাশি অন্যরাও জানতে পারলো। সেটা ডাবল লাভ হয় না?
তো আজকে এই পর্য়ন্তই থাকলো। ভালো থাকুন। এবং সাথেই থাকুন। :)

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ১০০০ ডলার আয় করার প্ল্যান :: পেইড ডোমেইন ও হোস্টিং-এর বিকল্প [যাদের ডোমেইন হোস্টিং কেনার সামর্থ নাই] [চেইন টিউন : পর্ব – ০৫] 0

সবাইকে আরেকবার স্বাগতম জানিয়ে, অনেক দিন পর আবারও শুরু করছি আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে লেখাটি। নানান ব্যস্ততা, অসুস্থ্যতা ইত্যাদি কারণে এই পর্ব লিখতে দেরি হয়ে গেলো। আন্তরিকভাবে দুঃখিত। যারা খোঁজ-খবর রেখে, অসুস্থ্যতার সময় দু’টো শান্ত্বনার কথা বলে আমার মনটাকে প্রফুল্ল করে তুলেছিলেন তাদের সবার কাছেই কৃতজ্ঞতা জানাই। দেরি হওয়া সত্বেও আমার টিউনের জন্য অপেক্ষা করেছেন ধৈর্য়্য ধরে- তাদেরকেই আমি প্রকৃত অধ্যবসায়ী মনে করি। তাদের নিয়েই ভবিষ্যতে প্ল্যান আছে। কারণ, আপনারাই পারবেন। ৫০০ জন অযথা স্প্যামারের চেয়ে ৫ জন প্রকৃত পরিশ্রমী পাঠকই যথেষ্ট। কারণ শেষ পর্য়ন্ত আপনারাই পারবেন। পারার জন্যই আপনারা জন্মেছেনে। আপনাদের জন্য শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও চেষ্টা করে যাবো, ইনশাল্লাহ।
তো কথা না বাড়িয়ে আজকের পর্ব শুরু করা যাক। গত পর্বে লিখেছিলাম নিস সাইটের জন্য পারফেক্ট ডোমেইন এবং বেস্ট হোস্টিং কীভাবে পাবেন তা নিয়ে। অনেকে শুরুতে ইনভেস্ট করতে চান না। বা করার সামর্থ হয়তো নেই। তাদের জন্যই মূলত আজকের পর্ব- পেইড ডোমেইন ও হোস্টিং-এর বিকল্প [যাদের ডোমেইন হোস্টিং কেনার সামর্থ নাই]

পেইড ডোমেইন এবং হোস্টিং-এর সাথে অন্যকিছুর তুলনা চলে না। কিন্তু বিকল্প আছে। সেই বিকল্প একাধিক মাধ্যমগুলোই আপনাদের কাছে তুলে ধরা হবে। ইনশাল্লাহ আপনারা উপকৃত হবেন।

বিকল্প পদ্ধতি কি কি আছে?

অনেক আছে। কিন্তু আপনাদের জন্য সহজসাধ্য এবং কম সময়সাপেক্ষ হবে এরকম কিছু ওয়ে আপনাদের জন্য এখানে তুলে ধরছি আমি। যেমন:
  • ওয়ার্ডপ্রেস.কম
  • ব্লগস্পট.কম
  • ইউটিউব
  • ফেসবুক
  • ক্রেইগলিস্ট
  • অন্যান্য

ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস.কম

http://www.wordpress.com থেকে ফ্রি সাইট বানিয়ে নিতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস থেকে ৩ জিবি হোস্টিংসহ একটি ওয়েব ২.০ সাইট পেতে পারেন সম্পূর্ণ ফ্রি। চাইলে একাধিক সাইটও বানিয়ে নিতে পারেন। শুরুতে একটি সাইট বানাতেই বলবো আমি। ওয়ার্ডপ্রেস ডট কমে সাইট বানানোর জন্য এই ভিডিও টিউটোরিয়ালটি দেখুন। মাত্র এক ঘণ্টা সময় নিয়েই আপনি সুন্দর একটি সাইট বানাতে পারবেন আপনার নিস সাইট হিসেবে:

ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস.কম-এর সুবিধা

++ এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।
++ খুবই অল্প সময়ে একটি সাইট বানাতে পারবেন।
++ কোনো কোডিং জ্ঞান প্রয়োজন নেই।
++ পেইড থিম বা অতিরিক্ত প্লাগিন প্রয়োজন হয় না।

ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস.কম-এর অসুবিধা

-- টার্মস এন্ড কন্ডিশনে অল্প একটু এদিক সেদিক হলেই সাইট অটো ডিলিট হয়ে যেতে পারে।
-- ইনফরমেটিভ আর্টিক্যাল ছাড়া অনলি প্রমোটেড আর্টিক্যাল/রিভিউ থাকলে সাইট ডিলিট হয়ে যেতে পারে
-- নিজের ইচ্ছে-স্বাধীনমতো সাইটের ডিজাইন করা সম্ভব হয় না
-- প্রয়োজন অনুযায়ী প্লাগিন এড করা সম্ভব হয় না।
-- এসইও নিজের স্বাধীনমতো করা যায় না

ব্লগস্পট.কম

ওয়ার্ডপ্রেস.কম-এর মতোই একটা সার্ভিস হচ্ছে ব্লগস্পট ডট কম। এটি বিগ জি অর্থাৎ গুগলের একটি সার্ভিস। http://www.blogspot.com গুগলের সার্ভিস হওয়ায় তুলনামূলক ওয়ার্ডপ্রেস ডট কমের চেয়ে এসইও’র দিক থেকে ব্লগস্পট ভালো। সাইট দ্রুত গুগলে ইনডেক্স হয়। ট্রাফিক পেতে সুবিধা হয়। নিচের ইউটিউব ভিডিওটাই যথেষ্ট ব্লগস্পটে একটি সুন্দর সাইট তৈরি করার জন্য। দেখে নিন:
ব্লগস্পটের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলোও অনেকটাই ওয়ার্ডপ্রেসের মতোই। সো আলাদা করে আর লিখলাম না।

ইউটিউব

খুবই চমৎকার একটি প্লাটফর্ম। ইউটিউবের মাধ্যমে কাজ করে অনেক ভালো ইনকাম করা সম্ভব আমাজন থেকে। কীভাবে? খুবই সহজ। আমাজন থেকে প্রোডাক্ট খোঁজে বের করুন। সেগুলোর উপর ভিডিও রিভিউ তৈরি করুন। তারপর সেগুলো ইউটিউবে এড করুন। ভিডিওগুলোর এসইও করুন। ভিডিওর ডেসক্রিপশনে আমাজন এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করুন।
এই মাধ্যমে আমি কখনও কাজ করিনি। তবে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই করছেন। এবং ভালো ইনকাম করছেন। সুতরাং আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

ফেসবুক

ফেসবুক এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি শোশ্যাল মিডিয়া। এখানে আপনি সময় নষ্ট করতে পারেন। আবার সময়টাকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণও করে তুলতে পারেন। সবকিছুই নির্ভর করছে আপনার উপর। আপনার যদি একটি পেজ থাকে ভালো, যেমন আপনার একটি ফেসবুক ফ্যানপেজ আছে বেবি প্রোডাক্টের উপর। সেখানে আপনি নিয়মিত বিভিন্ন টিপস লিখলেন বেবিদের খেলনা কিংবা দরকারি বিষয় নিয়ে। এভাবে যদি ২/৩ মাস কাজ করেন দেখবেন আপনার ফেসবুক ফ্যানপেজে ১০/১২ হাজার লাইকস আছে। যারা বেবি রিলেটেড প্রোডাক্টের প্রতি আগ্রহী। এবার যদি আপনি তাদেরকে কোনো অফার দেন, যেমন এই প্রোডাক্টটি ভালো। এই এই সুযোগ-সুবিধা আছে তাহলে দেখবেন সহজেই তারা বিভিন্ন প্রোডাক্ট কিনছেন। প্রতি মাসে যদি ১% লোকও আপনার প্রমোটেড প্রোডাক্ট কিনে তাহলে ১০০-১২০ টি প্রোডাক্ট সেল হবে। যার কমিশন কম করে হলেও ৫০০ ডলার হবে।
আর প্রতি মাসে লাইকারের সংখ্যা যেমন বাড়বে, আপনার সেলের পরিমাণও বাড়বে। ফেসবুক ব্যবহার কেমন ভেলুয়েবল হয়ে উঠছে দেখেছেন? এভাবে ফেসবুকে গ্রুপও তৈরি করতে পারেন। কিংবা অনেক বড় বড় বিভিন্ন গ্রুপ/ফ্যানপেজ আছে- সেগুলোতে প্রোডাক্ট প্রমোট করতে পারেন। তবে সরাসরি না করে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে যদি কাজ করেন তাহলেই দেখবেন প্রোডাক্ট সেলের পরিমাণ বেড়ে গেছে অনেক। যতো সেল, ততই কমিশন।

ক্রেইগলিস্ট

ক্রেইগলিস্ট (https://craigslist.org) বিশাল একটি সাইট। বাংলাদেশের এখানেই ডট কম বা বিক্রয় ডট কমের মতো অনেকটা। সেখানে যেকোনো কিছুর বিজ্ঞাপন এড করতে পারবেন ফ্রিতে। এখানেও একটু বুদ্ধিটা কাজে লাগান। আমাজনে বিভিন্ন অফারের/ডিসকাউন্টের প্রোডাক্টগুলো খোঁজে বের করুন। তারপর সেগুলোর লিংক শর্টেনার করে ক্রেইগলিস্টে এড দিন এভাবে: ৪০% ছাড়ে/৫০% ছাড়ে কিনুন আপনার বেবির জন্য একটি চমৎকার খেলনা। যে খেলনাটির এই এই ভালো দিক আছে। এরকম যেকোনো প্রোডাক্টই আপনি প্রমোটি করতে পারেন।
এভাবে দৈনিক এক ঘণ্টা কাজ করে মাস শেষে তিন হাজার ডলার ইনকাম করছেন এরকম ব্যক্তিকেও আমি চিনি। ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনও এই পদ্ধতিতে কাজ করিনি। আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

অন্যান্য

এভাবে খোঁজ-খবর করলে আরও অনেক অনেক ওয়ে বের হয়ে পড়বে। একটু চিন্তা করুন। মাথাটা একটু কাজে লাগান। দেখবেন আরও আরও কত কত পদ্ধতি আপনার মাথায় অহর্নিশ ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু খবরদার! সবগুলো নিয়ে কাজ করতে যাবেন না। তাহলে একেবারে মাখিয়ে ফেলবেন। যেকোনো একটা দিক নিয়ে শুরু করুন। ধৈর্য়্য ধরে কাজ করে যান। ইনশাল্লাহ সফলতা পাবেনই।
দেখুন, ৫০০ ডলার হলেই আমাদের দেশে যথেষ্ট ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য। আমাদের দেশের যারা বড় চাকরি করে তারাও অনেকে ৪০ হাজার টাকা মাস শেষে বেতন পায় না। আর আপনি জানেন ৪০ হাজার টাকা দামের একটা চাকরি পাওয়া কতটা কষ্টকর। তো সেই ৫০০ ডলার বা ৪০ হাজার টাকা আপনি কি মনে করেন খুব সহজেই ইনকাম করে ফেলবেন? ব্যাপারটা কি তাই?
কিন্তু আমি মনে করি সহজ না হলেও, অন্তত ৪০ হাজার টাকা দামের চাকরি পাওয়ার চেয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ৫০০ ডলার ইনকাম করা সহজ। এই চেইন টিউনটা শেষ করতে পারলে সেটা আপনার কাছেও মনে হবে, ইনশাল্লাহ।
সুতরাং আমি অনুরোধ করবো- গালাগালি না করে, ধৈর্য়্য ধরে এই চেইন টিউনটা পড়ে যান। শুধু পড়াতেই শেষ করবেন না। যেভাবে যেখানে যা বলা হয়েছে সেখানে সেভাবেই প্রাকটিক্যাল কাজগুলোও করবেন। দেখবেন রিটার্ন পাবেনই।

সর্বশেষ কথা

অনেকদিন পরে হলেও নতুন টিউন আপনাদের জন্য লিখতে পারলাম। পরবর্তী পর্বটাও দ্রুত লিখে ফেলবো ইনশাল্লাহ। কারণ পরের পর্বের ইংরেজিটা লিখে ফেলেছি। সুতরাং বাংলাটাও দেরি হবে না। যারা ইংরেজিটা দেখতে চান তারা এটা পড়তে পারেন: Design Your Niche Site within Short Time in Perfect Way.
তো আজকে এই পর্য়ন্তই থাকলো। ভালো থাকুন, সাথেই থাকুন।
http://www.techtunes.com.bd/tutorial/tune-id/427807

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ১০০০ ডলার আয় করার প্ল্যান :: নিস সাইটের জন্য পারফেক্ট ডোমেইন এবং বেস্ট হোস্টিং বাছাই [চেইন টিউন : পর্ব – ০৪]

ভূমিকা

হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন? শুরুতেই দুঃখ প্রকাশ করে নিচ্ছি অনিচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে টিটোরিয়াল টিউন করার কারণে। গত কয়েকদিন যাবৎ দৈনিক ৪/৫ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সময় পাচ্ছি না। কোনো কোনোদিন তারও কম ঘুমাচ্ছি। এবার বুঝে নিন কতোটা ব্যস্ততার মাঝে সময় কাটছে আমার। নিজের কয়েকটা সাইট নিয়ে কয়েকদিন যাবৎ সমস্যা হচ্ছিলো। তাছাড়াও আমাজনে প্রতিদিনের আপডেট নিয়মিত হচ্ছে না বলেও কিছু সমস্যা ফিল করছিলাম। এই সব মিলেই ব্যস্ততা যাচ্ছে।
আপনাদের জন্য যে টিউটোরিয়ালগুলো লিখি- সাধারণত দুপুরের খাওয়ার পর লিখতে বসি এবং রাত ১২ টার মধ্যে লেখা হয়ে যায় একেকটি পর্ব। কিন্তু এই পর্বটা গত এক সপ্তাহ ধরে লিখছি। কিন্তু তাও শেষ করতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত গতকাল ইংরেজিটা শেষ করেছি আর আজকে অবশ্যই বাংলাটা শেষ করবো বলে বদ্ধ পরিকর হয়েই বসেছি।
এই টিউটোরিয়াল লেখার জন্যই গত সপ্তাহে ডোমেইন-হোস্টিং কিনেছি। জাস্ট আপনাদের দেখানোর জন‌্য। স্ক্রিনশটগুলো ডোমেইন-হোস্টিং কেনার সময়ই নিয়েছি। যেন আপনাদের বুঝতে কোনো সমস্যা না হয়। ডোমেইন-হোস্টিং কেনার সময় আমার মাস্টারকার্ড ব্যবহার করেছি। সব ইনফরমেশন মুছে দিয়েছি। তারপরও ভুলে যদি আমার গোড্যাডি এবং কার্ডের কোনো ইনফরমেশন কোথাও থেকে যায় তাহলে সেটা আমাকে অবহিত করুন প্লিজ- আমি মুছে আবার আপডেট দেবো। তাহলে অনাকাঙ্খিত সমস্যা থেকে আমি রেহাই পাবো। আশা করি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন।
যাইহোক, চলুন দেরি না করে আজকের পর্ব শুরু করা যাক।


আজকের পর্বে কি কি শিখবো?

প্রথম পর্বে এই পর্ব সম্পর্কে হাইলাইটস লিখেছি। আজকের পর্বটি হচ্ছে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিয়ে। কীভাবে আপনার নিস সাইটের জন্য একটি পারফেক্ট ডোমেইন এবং বেস্ট হোস্টিং বাছাই করবেন সেই সংক্রান্তই হচ্ছে আজকের টিউন।
এছাড়াও আজকের পর্বে আমরা জানবো- কীভাবে একটি ডোমেইন ফ্রিতে পেতে পারি এবং সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে সেরা হোস্টিং কীভাবে পেতে পারি? আশা করি লেখাটি আপনারা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

কীভাবে একটি পারফেক্ট ডোমেইন বাছাই করবেন?

আচ্ছা, আপনারা কি জানেন EMD এবং PMD সম্পর্কে? EMD মানে Exact Match Domain এবং PMD মানে Partial Match Domain। তো এখন প্রশ্ন হলো- EMD এবং PMD মানে কী বোঝায়? চলুন জেনে নেয়া যাক।
Exact Match Domain (EMD): যদি আপনার কীওয়ার্ডটিই আপনার ডোমেইন নেম হয় তাহলে সেটা EMD। যেমন আপনার কীওয়ার্ড যদি হয় Best Coffee Maker এবং আপনার ডোমেইন নেম যদি হয় BestCoffeeMaker.com তাহলে এই ডোমেইনটা হচ্ছে Exact Match Domain বা EMD। আশা করি ব্যাপারটা ক্লিয়ার।
Partial Match Domain (PMD): যদি আপনার কীওয়ার্ডটির সাথে আপনার ডোমেইন হুবহু মিল না থেকে অল্প মিল থাকে তাহলে সেটা PMD। যেমন আপনার কীওয়ার্ড যদি হয় Best Coffee Maker এবং আপনার ডোমেইন যদি হয় BestCoffeeShop.com বা BestCoffeeHQ.com তাহলে এটা Partial Match Domain বা PMD। আশা করি এই ব্যাপারে আপনি ক্লিয়ার।

EMD নাকি PMD কোনটা পারফেক্ট?

অবশ্যই PMD। কারণ গুগল। গুগল EMD-কে হেইট করে। সুতরাং বর্তমানে প্রায় সব এফিলিয়েট আমাজন স্টাররাই EMD-কে এড়িয়ে চলছেন। যদিও ডোমেইন হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আমি EMD-কেই পছন্দ করি। কিন্তু নিস সাইটের ক্ষেত্রে গুগলের পছন্দটাকেই আমি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কারণ এছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং আপনারাও যখন ডোমেইন কিনবেন তখন অবশ্যই EMD বাদ দিয়ে PMD টাইপ ব্রান্ডেবল ডোমেইন কিনবেন। এতে গুগল প্যানাল্টি থেকে সামান্য হলেও দূরে থাকবেন। চেষ্টা করবেন আপনার কীওয়ার্ডের সাথে মিল রেখে বা কাছাকাছি কোনো পারসিয়ালি সিমিলার ডোমেইন কিনতে।
তো আশা করি কীভাবে পারফেক্ট ডোমেইন নির্বাচন করবেন তার ধারণা আপনার ক্লিয়ার হয়েছে। বুঝতে সমস্যা হলে নিম্নে টিউমেন্টের ঘরে জিজ্ঞেস করতে ভুলবেন না যেন!

বেস্ট হোস্টিং নির্বাচন

কম দাম দিয়ে হোস্টিং কিনে আপনার নিস সাইটকে নিয়ে পস্তাবেন না। অনুরোধ রইলো। কেন? কারণ গুগল সার্চ ইঞ্জিনের প্রায় ২০০ ফ্যাক্টরের মধ্যে হোস্টিং-এর মানও একটা বড় ব‌্যাপার। যদি আপনার সাইটের স্পীড কম হয় তুলনামূলক তাহলে সাইট সহজে গুগলে র‌্যাংক করে না। আর এটা সবাই জানেন যে, সাইটের স্পীড কম হওয়ার পেছনে হোস্টিং মানও অনেকটা নির্ভর করে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্লুহোস্ট পছন্দ করি নিস সাইটের জন্য। কিন্তু শুরুতেই আমি আপনাদের নিষেধ করবো ব্লুহোস্টের দিকে যেতে। কারণ ব্লুহোস্ট তুলনামূলক দাম একটু বেশি। তাই নতুন হিসেবে আপনারা আপাতত ঐদিকে না যাওয়াই ভালো। তাছাড়া অতো ভালো মানের হোস্টিং আপনাদের আপাতত দরকারও নাই।
আপনাদের জন্য তাই আমি এমন একটি হোস্টিং নির্বাচন করেছি যেটি আপনার সাধ্যের ভেতর। হোস্টিং-এর মানও ব্লুহোস্টের প্রায় সমপর্যায়ের। যদিও রেগুলার প্রাইস বেশি কিন্তু আপনাদের আমি একটি কুপন দেবো, যে কুপন দিয়ে মাত্র ১২ ডলারে এক বছরের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রেন্ডলি হোস্টিং পাবেন। এবং এই ১২ ডলারের মধ্যে একটি ডট কম ডোমেইন পাবেন এক বছরের জন্য ফ্রি। কী, শুনতে ভালো লাগছে? চলুন বিস্তারিত স্টেপ বাই স্টেপ শুরু করি। কোন সেই সাইট সেটি? সাইটের নাম আপনার পরিচিত। হোস্টিং এবং ডোমেইন প্রোভাইডারের নাম গোড্যাডি। গোড্যাডি এক সময় আমি হেইট করতাম। কিন্তু বর্তমানে তাদের ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিংয়ের মান এবং প্রাইসের কথা বিবেচনা করে ব্যবহার করেছি আমার অনেক নিস সাইটের জন্য। আপনিও করুন, সেটিসফাইড হবেন।
তবে অন্যান্য জায়গা থেকেও আপনি হোস্টিং কিনতে পারেন। কিন্তু কেনার আগে নিচের ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখুন:
-- SSD হোস্টিং কিনা?
-- ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রেন্ডলি কিনা?
-- আপটাইম গ্যারান্টি মিনিমাম ৯৯% কিনা?
-- মানিব্যাক গ‌্যারান্টি আছে কিনা?
-- হোস্টিং প্রোভাইডারের পূর্বের ভালো রেপুটেশন আছে কিনা?
-- দাম কম এবং হোস্টিং কোয়ালিটি ভালো কিনা? ইত্যাদি
যদি এসব প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে সন্তোষজনক মনে হয় তাহলে অন্য জায়গা থেকেও হোস্টিং কিনতে পারেন। তবে ফ্রি ডোমেইনসহ এতো কম দামে এতো ভালো হোস্টিং আর কোনো প্রোভাইডার দিতে পারে বলে আমার জানা নেই। আপনার জানা থাকলে নিতে পারেন।

ফ্রি ডোমেইনের জন্য গোড্যাডির কুপন কোড

আগেই বলেছি- গোড্যাডির ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং আপনাদের কম দামে কেনার ব্যবস্থা করে দেবো। রেগুলার প্রাইস ৫৯.৮৮ ডলার প্রতি বছরের জন্য। যা আমি আপনাদেরকে মাত্র ১২ ডলারে কেনার ব্যবস্থা করে দেবো এবং এই ১২ ডলারের মধ্যে একটি ডোমেইনও ফ্রি পাবেন এক বছরের জন্য।
তবে সেই ডিসকাউন্ট প্রাইসে হোস্টিং এবং ফ্রি ডোমেইন পাওয়ার জন্য একটি কুপন কোড ব্যবহার করতে হবে কেনার সময়। সেই কুপন কোডটি পাওয়ার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন এবং ট‌্যুইটার/ফেসবুক/গুগলপ্লাসে শেয়ার করুন ট্যুইট/লাইক/প্লাস করে। তাহলেই কুপন কোডটি হাইড থেকে শো করবে।

গোড্যাডি ফ্রি ডোমেইন কুপন কোড পেতে এখানে ক্লি করুন


পারফেক্ট ডোমেইন এবং বেস্ট হোস্টিং কিনি চলুন

শুরুতেই যে কথা বলা হয়নি- গোড্যাডি থেকে কুপন কোড দিয়ে ফ্রি ডোমেইনসহ হোস্টিং কিনতে হলে আপনার একটি আন্তর্জাতিক মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড থাকতে হবে। আপনার আছে কি? আমাদের দেশের লোকাল কার্ড দিয়ে আপনি কিনতে পারবেন না। সো আমাদের দেশের জন্য একমাত্র ভরসাপেওনিয়ার মাস্টারকার্ড। যেহেতু একটু চেষ্টা করলেই পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড ফ্রিতে পাওয়া যায় তাই অনেকেই ইন্টারন্যাশনাল পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড ব্যবহার করেন অনলাইনে বিভিন্ন কেনাকাটার জন্য।
আপনিও কি ফ্রিতে একটি পেওনিয়ার মাস্টাকার্ড পেতে চান? তাহলে এখানে ক্লিক করুন: ফ্রি পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড সাথে ২৫ ডলার বোনাস
আপনার একটি ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড আছে ধরে নিয়েই আমি এই টিউটোরিয়াল লিখছি। নিচে ধাপে ধাপে স্ক্রিনশটসহ কেনার প্রক্রিয়াটি আপনাদের জন্য বর্ণনা করছি। উল্লেখ্য, আপনাদের জন্য এই টিউটোরিয়ালে স্ক্রিনশট ব্যবহার করার জন্যই একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনেছি যেন ব্যাপারটি পারফেক্টলিভাবে আপনাদেরকে দেখাতে পারি। সুতরাং আশা করি আপনারা মনোযোগ দিয়ে ধাপগুলো পড়বেন এবং বুঝতে চেষ্টা করবেন।

ধাপ # ০১

প্রথমেই চলুন গোড্যাডিতে যাই: http://www.godaddy.com। তারপর আপনার কাঙ্খিত ডোমেইনটি লিখে “Search Domain” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ # ০২

যদি আপনার ডোমেইনটি আগে কেউ রেজিস্ট্রেশন করে না থাকে তাহলে এরকম একটি ম্যাসেজ পাবেন পরবর্তী পৃষ্ঠাতে: “Yes! Your Domain is Available. Buy It Before Someone else does“। সুতরাং “Continue to Cart” বাটনে ক্লিক করুন। এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাতেও “Continue to Cart” বাটনে ক্লিক করে কন্টিনিউ করুন।

ধাপ # ০৩:

নিচের স্ক্রিনশটটি খেয়াল করুন- আমি দু’টি জায়গায় লাল দাগ দিয়ে বক্স করে মার্ক করেছি। প্রথমে দেখুন টার্ম ৫ বছর দেখাচ্ছে। এখানে ক্লিক করে এক বছর সিলেক্ট করে দিন। তাহলে দ্বিতীয় লাল বক্সে দেখানো প্রাইস ৬৩.৮৫ ডলারের পরিবর্তে ১২.৯৯+০.১৮ = ১৩.১৭ ডলার দেখাবে। এবং আমরা যখন কুপন কোড ব্যবহার করবো তখন এই ১৩.১৭ ডলারের পরিবর্তে ০.০০ ডলার অর্থাৎ ফ্রি হয়ে যাবে।

ধাপ # ০৪

ডোমেইন আমাদের কার্টে এড করা হয়েছে। এখন আমরা হোস্টিং চুজ করবো। এজন্য গোড্যাডির মেনুবার থেকে “Hosting”-এ ক্লিক করুন। তারপর ড্রপ-ডাউন থেকে “WordPress Hosting – On Sale” মেনুতে ক্লিক করুন। নিচের স্ক্রিনশটটি দেখুন আরও ভালো করে বুঝতে।

ধাপ # ০৫

গোড্যাডির ৪ টি ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং প্যাকেজ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- Basic, Deluxe, Ultimate & Developer। আমরা কিনবো Basic প্যাকেজটি। Basic প্যাকেজে আছে ১০ জিবি পিউর এসএসডি হোস্টিং স্পেস, ২৫ হাজার মাসিক ভিজিটর, ওয়ার্ডপ্রেস প্রি-ইনস্টলড এবং একটি ডট কম ডোমেইন ফ্রি। আমাদের কাজের জন্য এটিই পারফেক্ট। নিচের স্ক্রিনশটটি দেখুন এবং “Configure” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ # ০৬

১২ মাস বা এক বছর প্ল্যানে অটো সিলেক্ট করা থাকে। যদি না থাকে তাহলে ১২ মাস সিলেক্ট করুন। কারণ এক বছরের জন্য কিনতে হবে ফলে গোড্যাডি কুপন ব্যবহার করা যাবে এবং ফ্রি ডোমেইন পাওয়া যাবে। ১২ মাস সিলেক্ট করুন, তারপর স্ক্রল ডাউন করে নিচে গিয়ে “Continue” বাটনে ক্লিক করে কন্টিনিউ করুন। ক্লিয়ার বুঝতে স্ক্রিনশট দেখুন নিচে:

ধাপ # ০৭

এই ধাপটি হচ্ছে হোস্টিং-এর সাথে ডোমেইন এড করার জন্য। কিন্তু যেহেতু আমরা আগেই ডোমেইন এড করে ফেলেছি তাই এখানে পেজের উপরে ডানদিকে “Checkout Now” বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী পৃষ্ঠায় চলে যাবো। স্ক্রিনশট দেখুন ভালো করে বুঝতে।

ধাপ # ০৮

এখানে দু’টি ব্যাপার খেয়াল করুন। আপনার ডোমেইন প্রাইস ০.০০ ডলার দেখাচ্ছে, অর্থাৎ ফ্রি। কিন্তু হোস্টিং প্রাইস ৫৯.৮৮ ডলার দেখাচ্ছে। কিন্তু আমরা তো ১ ডলার প্রতি মাস হিসেবে এক বছরের জন্য ১২ ডলারে কিনতে চাই। সুতরাং আমাদেরকে কুপন কোড ব্যবহার করতে হবে। আপনি কি উপরে সোশ্যাল শেয়ার দিয়ে কুপন কোডটি নিয়েছেন? এখানে “+Add” বাটনে ক্লিক করুন সেই কুপন কোডটি ব্যবহার করার জন্য। তাহলে প্রাইস ডিসকাউন্ট হয়ে ১২ ডলার হয়ে যাবে ৫৯.৮৮-এর পরিবর্তে।

ধাপ # ০৯

এই পেজে “Have a promotional code?”-এর নিচের বক্সে আপনার কুপন কোডটি দিয়ে “Apply” বাটনে ক্লিক করুন। দেখবেন প্রাইস ডিসকাউন্ট হয়ে ১২ ডলার হয়ে গেছে। সুতরাং পরবর্তী ধাপে চলুন কন্টিনিউ করতে।

ধাপ # ১০

এই পেজে দেখুন প্রাইস ১২.১৮ ডলার হয়েছে সর্বমোট। এর মধ্যে ১২ ডলার হোস্টিং প্রাইস আর ১৮ সেন্ট হচ্ছে ট্যাক্স এবং ফি হিসেবে গোড্যাডি আপনাকে চার্জ করছে। ঠিক আছে?। এখন “Proceed to Checkout” বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি পরবর্তী পেজে রিডাইরেক্ট হবেন। সেখানে রেজিস্ট্রার এবং লগিন অপশন পাবেন।

ধাপ # ১১

আপনার যদি গোড্যাডিতে আগেই একাউন্ট করা থাকে তাহলে এখন শুধু লগিন করুন তাহলে কার্ট পেজে রিডাইরেক্ট হবেন। আর যদি একাউন্ট না থাকে গোড্যাডিতে তাহলে নিউ কাস্টমারের নিচে “Continue” বাটনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রার করে লগিন করুন। তারপর দেখার জন্য নেক্সট ধাপে চলুন।

ধাপ # ১২

এই ধাপে পেমেন্ট করার অপশন পাবেন। আগেই বলেছি এই অফারটি পেতে হলে আপনাকে আন্তর্জাতিক Debit/Credit/Prepaid Card ব্যবহার করতে হবে যদিও গোড্যাডিতে আরও অনেক পেমেন্ট মেথড রয়েছে। এখন নিচের ছবিটি দেখুন- আপনার গোড্যাডিতে যদি অলরেডি আগেই কার্ড এড করা থাকে তাহলে “Preferred Payment Method” থেকে আপনার কার্ডটি সিলেক্ট করে দিন। আর যদি কার্ড এড করা না থাকে তাহলে “Debit/Credit/Prepaid Card” অপশন সিলেক্ট করুন। সিলেক্ট করলে আপনার কার্ডের ইনফরমেশন চাইবে। সেগুলো সঠিকভাবে দিন। তারপর “I agree to following”-এর সাথে দেয়া বক্সে টিক চিহ্ন দিন এবং তারপর “Place Your Order” বাটনে ক্লিক করুন। সব কিছু ঠিক থাকলে আপনার ডোমেইন ও হোস্টিং কেনা হয়ে যাবে এবং পরবর্তী সামারি পেজে রিডাইরেক্ট হবেন।

ধাপ # ১৩

আমাদের ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনা কমপ্লিট। এখন আমাদের ডোমেইন-হোস্টিং-এ ওয়ার্ডপ্রেস সেটাপ দেবো যা আমাদের মাত্রই কেনা হোস্টিং-এ অলরেডি প্রি-ইনস্টলড আছে। এখন শুধু আমরা সেটাপ করে নেবো। এজন্য “Managed WordPress” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ # ১৪

নিচের স্ক্রিনশটটি দেখুন। ওখান থেকে “Set Up” বাটনে ক্লিক করুন ওয়ার্ডপ্রেস সেটাপ শুরু করার জন্য।

ধাপ # ১৫

অলরেডি আমাদের হোস্টিং-এ ওয়ার্ডপ্রেস আপলোড করে প্রি-ইনস্টলড আছে। এখন “Create a New WordPress site”-এ ক্লিক করে সেটাপ করে নিতে হবে। নিচের স্ক্রিনশটে দেখানো মতো কন্টিনিউ করুন।

ধাপ # ১৬

নিচের স্ক্রিনশটটি ভালো করে খেয়াল করুন। ফরমে যে যে ইনফোগুলো দিতে বলা হয়েছে সেগুলো দিন। তারপর “Finish” বাটনে ক্লিক করুন। এতে ২ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগতে পারে সবকিছু সেটাপ হতে। এই সময়ে শুধুমাত্র অপেক্ষা করুন। আর কিছু করার দরকার নেই।

ধাপ # ১৭

আপনি সাকসেসভাবে সব কাজ করতে পেরেছেন। এখন আপনার সাইট লাইভ। চাইলে সাইট ডিজাইনের কাজ যেমন নিউ থিম এড, প্লাগিন ইনস্টল, কনটেন্ট পাবলিশ ইত্যাদি কাজগুলো করতে পারেন। আর যদি অপেক্ষা করেন তাহলে পরবর্তী টিউটোরিয়ালে সেগুলো আমিই দেখিয়ে দেবো ইনশাল্লাহ। যদি নিচের স্ক্রিনশটটির মতো আপনি বার্তা পান তাহলে বুঝে নেবেন আপনার সাইটে ওয়ার্ডপ্রেস সফলভাবে ইনস্টল হয়েছে এবং আপনার সাইটটি এখন লাইভ।

সর্বশেষ কথা

যাক, অবশেষে দীর্ঘ এই টিউটোরিয়ালটি লেখা শেষ করতে পারলাম। আশা করি সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ সব ব্যাপারই আলাপ করতে পেরেছি। এবার বলুন- আপনাদের বুঝতে তেমন সমস্যা হয়নিতো? সমস্যা হলে আমাকে প্রশ্ন করতে ভুলবেন না। আপনাদের প্রতিটি টিউমেন্ট আমি যত্ন করে পড়ি এবং পড়তে আমার ভালো লাগে। সুতরাং বেশি বেশি টিউমেন্ট করে আমাকে উৎসাহিত করুন।
আর ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যারা সাইট ডিজাইন করতে পারেন তারা সাইট ডিজাইন শুরু করতে পারেন। আর যারা পারেন না, তারা পরবর্তী টিউনের জন্য অপেক্ষা করুন। পরবর্তী টিউটোরিয়াল “সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে নিস সাইট ডিজাইন [কোডিং জ্ঞান ছাড়াই]” আসছে শিগগিরই। তবে তারও আগে আছে  আরও একটি টিউটোরিয়াল- যারা পেইড ডোমেইন-হোস্টিং ছাড়া নিস সাইট করতে চান তাদের জন্য বিকল্প একটি টিটোরিয়াল আছে আমাদের লিস্টে: “পেইড ডোমেইন ও হোস্টিং-এর বিকল্প [যাদের ডোমেইন হোস্টিং কেনার সামর্থ নাই]”। এটি লেখার পরেই সাইট ডিজাইনের টিউটোরিয়ালটি পাবেন।
তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো- নিস সাইট করতে হলে পেইড ডোমেইন হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করাই ভালো। কারণ অনেক কষ্ট করে ফ্রিতে নিস সাইট বানালেন। কিন্তু যে মুহূর্তে সাইট র‌্যাংক করলো তখনই বা তার সামান্য আগে দেখলেন আপনার সাইট ডিলিট করে দিয়েছে প্রোভাইডার। তখন কিছুই করার থাকবে না। তারপরও অনেকে ফ্রিতে নিস সাইট করছেন। তাদের কথা বিবেচনা করেই “পেইড ডোমেইন ও হোস্টিং-এর বিকল্প [যাদের ডোমেইন হোস্টিং কেনার সামর্থ নাই]” টিউটোরিয়ালটি পাবলিশ করা হবে। দু’টি বিষয় জানা থাকলে আপনারও ডিসিশন নিতে সুবিধা হবে।
তো বিশেষ আর কি! আজ এ পর্যন্তই। ভালো থাকুন, সাথে থাকুন।
http://www.techtunes.com.bd/tutorial/tune-id/418209

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ১০০০ ডলার আয় করার প্ল্যান :: নিস সাইট কম্পিটিশন এনালাইসিস স্ট্রাটেজি [চেইন টিউন : পর্ব – ০৩]

গত পর্বে কীওয়ার্ড রিসার্চ সম্পর্কে লিখেছিলাম। ঐ লেখাটারই পরিপূরক লেখা আজকেরটি- কীওয়ার্ড কম্পিটিশন এনালাইসিস নিয়ে। আপনার সাইটটি রেংক করানোর জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে, কতটা পরিশ্রম করতে হবে সেসব নিয়েই আজকের লেখাটি। চলুন তবে শুরু করা যাক।

একটি সতর্কবার্তা! কথাটা আমার কানে এসেছে তাই আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। অনুগ্রহ করে ভবিষ্যতে এরকম রিউমার ছড়াবেন না। কে একজন বিভিন্ন জায়গায় ছড়াচ্ছেন- "আমাকে তিনি চেনেন, আমার সাথে তার চলাফেরা আছে।" চমৎকার, এটা সে বলতেই পারে। কিন্তু পরবর্তী কথাটা যা বলছে, তা আমার মোটেও পছন্দ না। সে বলছে- আমি নাকি টেকটিউনস-এ ফ্রি টিউটোরিয়াল দিয়ে কমিউনিটি বিল্ডআপ করছি ভবিষ্যতে পেইড টিউটোরিয়াল সেল এবং ট্রেনিং করানোর জন্য। কথাটা শুনে বেশ দুঃখিত হয়েছি। যাইহোক, আপনাদের আবারও নিশ্চিত করছি- পেইড টিউটোরিয়াল বা ট্রেনিং করানোর কোনো প্ল্যান আমার নেই। ভবিষ্যতেও এসব করবো না। দয়া করে কেউ এরকম রিউমার ছড়াবেন না। সবাইকে ধন্যবাদ।

আমাজন নিস সাইট নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের মধ্যে যারা এক্সপার্ট তারা বেশিরভাগই বলেন- এই এনালাইসিস ব্যাপারটা খুবই মজার যদি আপনি গুগলের মেইন ভিউ অব পয়েন্টগুলো বুঝতে পারেন।
সুতরাং এনালাইসিস-এ যাওয়ার আগে গুগলের কিছু মেট্রিক্স সম্পর্কে আমাদের ক্লিয়ার থাকা আবশ্যক। এই লেখায় সেগুলো আলোচনা করবো। চেষ্টা করবো লেখায় টেকনিক্যাল ভাষা ব্যবহার না করে সহজবোধ্য নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করার। যাতে করে আপনারা সহজে ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। তাই কেউ পন্ডিতি করে আবার বলতে যাবেন না- বইয়ের সাথে তো আপনার সংজ্ঞা মিলছে না। তো আপনার কাছে যদি মনে হয়, আমার লেখা আপনার কাছে সমস্যা, আপনি প্রশ্ন করতে পারেন। আর আপনার যদি মনে হয়- বইয়ের ভাষা আপনার দরকার, তাহলে আমার টিউটোরিয়াল না পড়ে দয়া করে বই পড়ুন। সেটাই বরঞ্চ আপনার জন্য ভালো। আমার জন‌্যও। কী বলেন?

গুগলের এলগরিদম প্রায় নিয়মিতই আপডেট হয়। এবং কীওয়ার্ড এনালাইসিসে ভালো করার জন্য আপনাকে এসব আপডেট সম্পর্কে ধারণা ক্লিয়ার থাকতে হবে। এই জন্য কিছু ওয়েবসাইট, ব্লগ আপনাকে নিয়মিত পড়তে হবে। যেমন: গুগল ওয়েবমাস্টার ব্লগগুগল ইনসাইড সার্চময ব্লগম্যাট কাটস ব্লগসহ আরও বেশ কয়েকটি। এবং পড়তে পারেন আমার নিজের ব্লগ- এজন স্টার। এখানে আমি লিখি আমার নিজস্ব কাজের ধরণ। যা করে আমি সফলতা পেয়েছি সেগুলো জানতে পারবেন এখানে। আজকের লেখায় এবং আমার অন্যান্য লেখায় এরকম যেসব ব্লগের নাম আসবে সেগুলো নিয়মিত ফলো করবেন। পারসোনালি আমি নিজেও এসব ব্লগ পড়ি। আপনারাও পড়াশোনা নিয়মিত করবেন। এটা বেশ মজার এবং ফলপ্রসু। পড়বেন এবং কিছু বঝতে সমস্যা হলে "টিউমেন্ট" করবেন ঐ সাইটগুলোতে। দেখবেন ব্লগ অউনারের সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠবে। মার্কেটিং-এ যা আপনার খুবই কাজে লাগবে ভবিষ্যতে।

কীওয়ার্ড কম্পিটিশন এনালাইসিস সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত বলার আগে আপনাদের জন্য একটা প্রশ্ন- আপনারা কি জানেন কেন আমরা কম্পিটিশন এনালাইজ করবো? যদি জানেন তাহলে সেটা খুবই ভালো। আর যদি না জানেন তাহলে আমি আমার মতো বলছি, আপনার জানার সাথে মিলিয়ে নিন- কীওয়ার্ড কম্পিটিশন এনালাইজ করে আমরা দেখবো এই কীওয়ার্ডটা নিয়ে কাজ করে আমরা সফলতা পাবো কিনা? পেলে কতদিন লাগবে? এবং কীভাবে কাজ করলে সফলতা পাবো। সফলতা পাওয়া মানে এই কীওয়ার্ডটা গুগলে রেংক করাতে পারবো কিনা? রেংক করানোর অর্থ হচ্ছে- এই কীওয়ার্ডটা দিয়ে যে ওয়েবসাইট তৈরি করবো সেটা আমরা গুগলের প্রথম পেজে আনতে পারবো কিনা? পারলে কীভাবে আনবো?
অর্থাৎ আমাদের নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ দিলে প্রথম পেজে যে দশটা ওয়েবসাইটের লিংক আসবে সেগুলো এনালাইজ করে আমরা ডিসিশন নেবো আমরা যদি ঐ কীওয়ার্ড দিয়ে একটা সাইট বানাই তাহলে সহজে সে সাইটটা এই ১০ টা সাইটকে টপকে সবার উপরে আনতে পারবো কিনা?
ব্যাপারটা ক্লিয়ার? ক্লিয়ার হলে ভালো। না হলেও অসুবিধা নেই। কারণ লেখটা এখনও শেষ হয়নি। এই লেখাটা শেষ হলে পুরো ব্যাপারটা আপনার কাছে আরও ক্লিয়ার হয়ে যাবে আশা রাখি।

কম্পিটিশন এনালাইসিস কী?

কীওয়ার্ড বা নিস সাইট কম্পিটিশন এনালাইসিস কী সেটা উপরের প্যারাতে মোটামুটি বলেছি। এবার আরেকটু ক্লিয়ার হোন। ধরুন, আমি যদি “Best Coffee Maker” লিখে গুগলে সার্চ দিই, তাহলে গুগলের প্রথম পেজে ১০ টি লিংক শো করবে, রাইট? ঐ ১০ টা ওয়েবসাইট কি কারণে প্রথম পেজে আসছে সেগুলো আমরা খোঁজে দেখবো। এবং ঐ সাইটগুলোর দুর্বল দিক আছে কিনা সেগুলো খুঁজে নিয়ে আমরা এনালাইজ করে সিদ্ধান্ত নেবো আসলেই এই কীওয়ার্ডটা (“Best Coffee Maker”) নিয়ে আমরা কাজ করতে পারবো কিনা? আর কাজ করলে, কীভাবে কাজ করলে আমরা আমাদের সাইটটা প্রথমে নিয়ে আসতে পারবো? এবং নিয়ে আসাটা আমাদের জন্য হার্ড হবে নাকি সহজ হবে? এই সবই আমরা জানতে পারবো এনালাইসিসের ফলাফল থেকে। ঠিকাছে?

কীভাবে আমরা এনালাইসিস করবো?

আমাদের কম্পিটিটর খুব শক্ত নাকি সহজ সেটা বুঝতে পারা যায় কিছু সুনির্দিষ্ট মেট্রিকস ফলো করলে, হিসাব-নিকাশ করলে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা এই অধ্যায়ে আলাপ করবো। একটা ব্যাপার- মেট্রিকস অনেক আছে। কিন্তু শুরুতেই যদি আমি সবগুলো নিয়ে বলতে যাই তাহলে আপনারা সমস‌্যায় পড়বেন বলেই আমি মনে করি। ন‌্যুনতম যে মেট্রিকসগুলো না হলেই চলে না, এবং যেগুলো খুবই দরকারি সেগুলো নিয়েই আমরা ডিসকাস করবো। নিস সাইট শুরু করার জন্য এই কয়েকটা মেট্রিকসই যথেষ্ট। গুরুত্বপূর্ণ মেট্রিকসগুলো হচ্ছে:
১. টাইটেলে কীওয়ার্ড
২. ব্যাকলিংক সংখ্যা
৩. পেজ অথোরিটি (পিএ)
৪. ডোমেইন অথোরিটি (ডিএ)
৫. ট্রাস্ট ফ্লো (টিএফ)
৬. সিটাশন ফ্লো (সিএফ)
৭. মেটা ডেসক্রিপশন এবং
৮. সাইটের বয়স
এই কয়েকটা জানাই যথেষ্ট। এই কয়েকটা মেট্রিকস প্রোপারলি এনালাইজ করতে পারলে আপনারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলেই আমি মনে করি। আমিও এগুলোই সাধারণত দেখি। চলুন এই মেট্রিকসগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক। তার আগে আপনাদের জন্য একটা গিফট...

কীওয়ার্ড এনালাইসিস শীট

যে কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন সেগুলো সুন্দর করে লিপিবদ্ধ করে এনালাইজ করে সিদ্ধান্তে আসার জন্য আপনাদের জন্য একটা এক্সেল এনালাইসিস শীট গিফট করা হলো। এই এক্সেল শীটটি আমি আমার কাজে ব্যবহার করি। নিচের লিংক-এ অথবা ছবিতে ক্লিক করলে একটি নতুন পেজ ওপেন হবে। সেখানে নিচের ছবির মতো অংশে গিয়ে টুইটার, ফেসবুক বা গুগল প্লাসে ক্লিক করে শেয়ার দিলে এক্সেল শীটটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

টাইটেলে কীওয়ার্ড

আপনার ব্রাউজারে http://www.google.com-এ যান। http://www.google.com.bd নয় অবশ্যই। http://www.google.com-এ গিয়ে সার্চ বারে লিখুন “Best Coffee Maker” তারপর এন্টার চাপুন। প্রথম পেজের ১০ টি লিংক দেখুন:

এভাবে আপনি যখন একটা কীওয়ার্ড লিখে সার্চ দেবেন তখন খেয়াল করুন প্রথম পেজে থাকা ১০ টি লিংকের টাইটেলে কীওয়ার্ডটা হুবহু দেয়া আছে কিনা? যদি থাকে তাহলে বুঝা গেলো ঐ সাইটের ভ্যালু বেশি। আর যদি না থাকে তাহলে ঐ সাইটের ভ্যালু কম, মানে ঐ সাইটের একটা দুর্বল দিক আছে। আপনি যদি ঐ কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করেন তাহলে টাইটেলে অবশ্যই কীওয়ার্ড দেবেন। এভাবে ১০ টা সাইটের টাইটেলই চেক করবেন। এবং যে শীটটা দিয়েছি ঐ সাইটে লিপিবদ্ধ করবে হ্যাঁ অথবা না লিখে। হ্যাঁ মানে টাইটেলে কীওয়ার্ড আছে আর না মানে নেই। ওকে?

ব্যাকলিংক সংখ্যা

আশা করি ব‌্যাকলিংক সম্পর্কে আপনাদের ভালো ধারণা আছে। ব্যাকলিংক হলো- আপনার সাইটের লিংক অন্য সাইটে থাকা। তবে আপনি যদি এসইও সম্পর্কে আপডেট থাকেন তাহলে জানতে পারবেন- ব্যাকলিংকের ব্যাপারটা এখন আর আগের মতো নেই। গুগল এখন রিলেটেড ব্যাকলিংককেই কাউন্ট করে। অর্থাৎ আপনার সাইট যদি হয় কফি মেকার নিয়ে তাহলে এই রিলেটেড সাইট থেকেই আপনার সাইটের ব্যাকলিংক হতে হবে। কিন্তু আপনার সাইটের ব্যাকলিংক যদি হয় কম্পিউটার রিলেটেড সাইট থেকে তাহলে গুগল সেটাকে নেগেটিভ হিসেবে ধরে নেবে। এতে আপনার সাইটের উপকারতো হবেই না, বরং আরও ক্ষতি হবে।
তো আপনার কম্পিটিটর সাইটগুলোর ব্যাকলিংখগুলো চেক করে দেখুন। প্রতিটার ব্যাকলিংক প্রোফাইল কেমন? যদি অনেক বেশি ব্যাকলিংক হয় তাহলে এই কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ না করাই ভালো। একটা সাইটের ব্যাকলিংখ, ডোমেইন অথোরিটি এবং পেজ অথোরিটি দেখার জন্য ওপেনসাইট এক্সপ্লোরারব্যবহার করুন। এটি যদিও পেইড টুল, তবে ফ্রি সাইন আপ করে নিলে প্রতিদিন কয়েকটি সাইটের ব্যাকলিংক চেক করতে পারবেন। এছাড়াও আরও সাইট আছে যেগুলো দিয়ে একটা সাইটের ব্যাকলিংক চেক করা যায়।

পেজ অথোরিটি এবং ডোমেইন অথোরিটি কী?

পেজ অথোরিটি এবং ডোমেইন অথোরিটি ময.কম-এর দু'টি মেট্রিকস। একটা সাইটের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ময ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত একটা নাম্বার দেয়। আপনার কম্পিটিটর সাইটগুলোর পেজ অথোরিটি এবং ডোমেইন অথোরিটি যতো কম হবে ততই ভালো। প্রথম পেজে থাকা অন্তত ৩ টি সাইটের পেজ অথোরিটি এবং ডোমেইন অথোরিটি যেন ৩০-এর কম থাকে। যদি না থাকে এরকম, তাহলে ওই কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ না করাই শ্রেয়। কারণ রেংক করাতে আপনার কষ্ট হবে। ডোমেইন অথোরিটি এবং পেজ অথোরিটি এবং অন্যান্য আরও কিছু মেট্রিকস চেক করার জন্য আপনার ফায়ারফক্স বা ক্রোম ব্রাউজারে মযবার এডন/এক্সটেনশন ইউজ করতে পারেন।

ট্রাস্ট ফ্লো (টিএফ) এবং সিটাশন ফ্লো (সিএফ) কী?

ট্রাস্ট ফ্লো এবং সিটাশন ফ্লো হচ্ছে ম্যাজেস্টিক নামক একটি সাইটের দু'টি মেট্রিকস। একটা সাইটের ভ্যালু যতো বেশি হয় সেই সাইটের ট্রাস্ট ফ্লো এবং সিটাশন ফ্লো তত বেশি হয়। আপনার কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ দিয়ে গুগলের প্রথম পেজে যে ১০ টি লিংক পেয়েছেন, খেয়াল করুন অন্তত ৩ টি সাইটের ট্রাস্ট ফ্লো এবং সিটাশন ফ্লো যেন ৩০-এর নিচে আছে কিনা? আর যদি ২০-এর নিচে থাকা ৩টি পান তাহলেতো খুবই ভালো। ট্রাস্ট ফ্লো এবং সিটাশন ফ্লো চেক করার জন্য ম‌্যাজেস্টিক এসইও সাইটটি ব্যবহার করুন। এটিও পেইড টুল। তবে ফ্রিতে সাইনআপ করে নিলে কয়েকটি সাইট ফ্রি চেক করতে পারবেন।

অন্যান্য মেট্রিকস

এছাড়াও মেটা ডেসক্রিপশন এবং সাইটের বয়স একটা ফ্যাক্টর। লিংকগুলোর হুইজ চেক করলে সাইটের বয়স সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়াওআরকাইভস থেকে সাইটের হিস্টোরি সম্পর্কে বিস্তারিত দেখে নিন। আর মেটা ডেসক্রিপশন হচ্ছে- গুগলে সার্চ দেয়ার পর যে ১০ টি সাইট আমরা পেয়েছি, সেগুলোর টাইটেলের নিচে দেখুন ছোট্ট একটা প্যারা আছে- সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। এটাই মেটা ডেসক্রিপশন। এখানে কীওয়ার্ড ব্যবহৃত হয়েছে কিনা দেখুন। যে সাইটে না হয়েছে সেটা মার্ক করুন এক্সেল শিটটিতে। যখন আমরা সাইট বানিয়ে অন-পেজ এসইও করবো, তখন দেখিয়ে দেবো কীভাবে মেটা ডেসক্রিপশন ব্যবহার করতে হয়।

লং টেইল প্রো দিয়ে কীওয়ার্ড এনালাইসিস

আপনারা জানেন- লং টেইল প্রো একটি পেইড টুল। কীওয়ার্ড রিসার্চ অধ্যায়ে এই টুলটি সম্পর্কে আপনাদের বলেছি। এখানে আরও কিছু জানতে পারবেন। এটি আসলেই খুবই মজার একটি টুল। যা আপনার কাজকে সহজসাধ্য করে দেবে। তবু আমি শুরুতে আপনাদেরকে এই টুলটি কিনতে অনুৎসাহিত করছি। কারণ টুলটি বেশ ব্যয়বহুল এবং শুরুতে গুগল এডওয়ার্ডস এবং ম্যানুয়ালি কাজগুলো করলে আপনার জন্য ভালো হবে। যদিও পারসোনালি আমি কীওয়ার্ড রিসার্চ এবং এবং এনালাইসিসের জন্য এই টুলটি ব্যবহার করি এবং পছন্দ করি। কেন করি? কারণ এটা আমার সময় বাঁচিয়ে দেয় এবং কাজটি সহজ করে দেয়। শুরুতে একটা স্ক্রিনশট দেখুন। খেয়াল করুন- স্ক্রিনশটে আমি কিছু রেডমার্ক করে দিয়েছি। এগুলো আবার বিস্তারতি বর্ণনা করেছি নিচে। আগে স্ক্রিনশটটি দেখুন:

Keywords – Best Coffee Maker: খেয়াল করুন- হলুদ “Find Keywords” বাটনের নিচে যে বক্স আছে ওখানে "Best Coffee Maker" লিখে আমি এন্টার চেপেছি। তাই এখানে কিছু হিসাব-নিকাশ দেখাচ্ছে। Keywords-এর নিচে Best Coffee Maker তাই শো করছে। এবং এই কীওয়ার্ড গুগলে সার্চ দিলে যে ১০ টা লিংক প্রথম পেজে দেখাতো, সেই ১০ টাই Title and URL-এ দেখাচ্ছে।

Local Searches – 27,100: অর্থাৎ “Best Coffee Maker” কীওয়ার্ডটি ইউএসএ থেকে গুগলে ২৭,১০০ বার সার্চ হয়। এটাই এখানে দেখাচ্ছে। মনে আছে- গুগল এডওয়ার্ডসে আমরা এই বিষয়টা ডিটেইলস দেখেছিলাম? এখানে এটা কতো সহজে দেখে নিতে পারলেন। তাই না?

Average Keyword Competitiveness – 45: এভারেজ কম্পিটিটিভনেস বা কেসি (KC) হচ্ছে লং টেইল প্রো সফটওয়্যারের একটা হিসাব। একটা কীওয়ার্ডের কম্পিটিটর এনালাইজ করে লং টেইল প্রো ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত একটা মার্ক দেয়। শুধুমাত্র এই কেসি দেখেই আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এই কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন কি করবেন না? আমরা দেখছিলাম “Best Coffee Maker” কীওয়ার্ডটি। এই কীওয়ার্ডের কেসি দেখাচ্ছে ৪৫। অর্থাৎ এটি মোটামুটি একটা হার্ড কীওয়ার্ড। নিচের ছবিটি দেখে কেসি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিতে পারবেন:

সার্বিকভাবে নতুনদের জন্য কেসি ৩০ বা এর নিচে হলেই কাজ করতে সুবিধা। তবে ৩৫ পর্যন্ত নিতে পারেন যদি আপনার কাজ করার এভিলিটি থাকে। কিন্তু শুরুতে তার বেশি না নেয়াই ভালো।

এছাড়াও অন্যান্যগুলো...

আরও কয়েকটা বিষয়ে আমি রেডমার্ক করেছি। যেগুলো নিয়ে উপরে আলোচনা করেছি। আশা করি বিষয়গুলো বুঝতে কোনো সমস্যা হয়নি। ডোমেইন অথোরিটি, পেজ অথোরিটি, সাইট এজ ইত্যাদি না বুঝতে পারলে উপরের অংশটা আবারও পড়ে নিন।

সর্বশেষ কথা

আজকের মতো এই পর্যন্তই থাকলো। বুঝতে সমস্যা হলে টিউমেন্ট করে জানাবেন। অবশ্যই উত্তর দেবো। গত পর্ব আর এই পর্ব যদি আপনি ভালো করে বুঝে থাকেন তাহলে নিস সাইট সম্পর্কে আপনার কাজ ৭০% কমপ্লিট হয়ে গেছে ধরে নিন। সুতরাং এই পর্ব এবং কীওয়ার্ড রিসার্চ পর্ব বারবার পড়ার জন্য সাজেস্ট করবো আমি।
ভালো থাকুন, সাথেই থাকুন।
http://www.techtunes.com.bd/tutorial/tune-id/408069